জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের উদ্যোগ স্থগিতের দাবি জামায়াতের

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হলে তা জনগণের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করবে।” এটি কোনো সংস্কার নয়, বরং দুর্নীতি ও লুটপাটের নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেসরকারি খাতের সক্ষমতা ও সিন্ডিকেটের আশঙ্কা

জামায়াত নেতা বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিপুল আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি গোষ্ঠীর রয়েছে। ফলে বেসরকারিকরণ করা হলে প্রতিযোগিতা তৈরির বদলে সিন্ডিকেট ও বেসরকারি একচেটিয়া প্রভাব গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অদক্ষ বা লোকসানি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বিগত বছরগুলোতে হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও জনগণের স্বার্থে দেশীয় বাজারে দাম না বাড়ানোর কারণে সাময়িক লোকসান গুণতে হয়েছে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভর্তুকির এই দায় বহন করবে না, বরং সরাসরি জনগণের ওপর বাড়তি মূল্যের বোঝা চাপিয়ে দেবে।

দরপত্রের সময়সীমা হ্রাস ও জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র জমার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়। জামায়াতের মতে, এত অল্প সময়ে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশ নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কম দরদাতা এবং সিন্ডিকেটের দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করবে। এছাড়া জ্বালানি তেল দেশের প্রতিরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের মূল চালিকাশক্তি। জরুরি সংকট বা যুদ্ধের সময়ে বেসরকারিকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় নির্দেশ মানতে বাধ্য নাও হতে পারে, যা বাংলাদেশ-এর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জামায়াত উত্থাপিত প্রশ্ন ও ছয় দফা দাবি

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের কাছে ছয়টি লিখিত প্রশ্ন তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে নীতিমালা প্রকাশের স্বচ্ছতা, কারিগরি ভিত্তি এবং আগের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের বিষয় রয়েছে। পরবর্তীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছয়টি স্পষ্ট দাবি পেশ করা হয়:

\১. জ্বালানি তেল খাত বেসরকারিকরণের সব উদ্যোগ অবিলম্বে \স্থগিত\ করতে হবে।
২. খসড়া নীতিমালা জনসমক্ষে প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিনের জন্য জনমত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. সংসদীয় কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করতে হবে।
৪. বিপিসি সংস্কারে স্বাধীন নিরীক্ষা এবং ই-জিপি বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫. ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে।
৬. শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার হরণের সুপারিশ প্রত্যাহার করতে হবে।\

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি ও ক্যাব-এর মতো গবেষণা ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের মতামত উল্লেখ করে জ্বালানিকে মুনাফার পণ্য না বানিয়ে জনসেবামূলক খাত হিসেবে বজায় রাখার জোর দাবি জানানো হয়।

#জ্বালানিসংকট #বাংলাদেশ #জামায়াতেইসলামী #অর্থনীতি