গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় পাঁচজনের প্রাণহহানি ঘটেছে। এই গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই, রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এলাকায় কারফিউ জারি ছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে মোট ৩ হাজার ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ২৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, সাধারণ নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারফিউ তুলে নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সকাল থেকে সাধারণ মানুষের চলাচল বেড়েছে এবং দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খুলেছে। তবে, স্থানীয়দের মধ্যে এখনও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। সহিংসতার বিস্তারিত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্প্রতি গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়, যা স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরলস কাজ করেছে। সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রেফতারও করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। বিএনপি নেতাদের উদ্বেগ ও দাবি গোপালগঞ্জের এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি নেতা (কেন্দ্রীয় সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক) এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তার চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির একটি মিটিংয়ে হামলা, মঞ্চ ভাঙচুর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। একই সাথে, তিনি অভিযোগ করেন যে গ্রেফতারের নামে নিরীহ দোকানদার, ভ্যানচালক, কৃষক ও দিনমজুরদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, গ্রেফতারের আগে যেন রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয় এবং ব্যক্তি বিশেষের শত্রুতাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ যেন নিরীহদের হয়রানি না করে। সেলিমুজ্জামান সেলিম ও সরদার মো. নুরুজ্জামানের বক্তব্য একই আসনের বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম তার ফেসবুক পোস্টে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে, গোপালগঞ্জ জেলা ও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা থেকে আগত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের পেটোয়া বাহিনী বর্বরোচিত হামলা, জেলখানায় হামলা, ডিসি-এসপি অফিসে হামলা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে। সেলিমুজ্জামান সেলিম এসব দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে তিনি প্রশাসনকে মুকসুদপুর-কাশিয়ানীসহ পুরো গোপালগঞ্জের নিরীহ মানুষদের ওপর কোনো ধরনের জুলুম না করার অনুরোধ করেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরদার মো. নুরুজ্জামান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, গতকাল থেকে গোপালগঞ্জের অনেকেই ফোন করে বলছেন যে, অধিকাংশই নিরপরাধ মানুষ, অথচ তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি না করার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জ মানে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, এখানে হাজারো জাতীয়তাবাদী আদর্শের মানুষ রয়েছেন। তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, যারা গোপালগঞ্জকে অশান্ত করেছে, তাদের মুখোশ জনগণ চিনে ফেলেছে এবং তিনি গোপালগঞ্জের শান্তি ও মানুষের মঙ্গল কামনা করেন।