চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সংগঠককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী থানা থেকে কিছুটা দূরে ফরহাদ-নোমান ভবনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই হামলায় এনসিপির বাঁশখালী উপজেলার সংগঠক তানভীর কাদের সিকদার (২৩) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের দলীয় কর্মসূচির প্রচারণার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে এই হামলা চালায়। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং এনসিপি নেতারা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান যে, এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে তানভীর কাদের সিকদার কয়েকটি অটোরিকশা নিয়ে প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেই সময় একদল যুবক এসে তাদের প্রচারণার ব্যানারগুলো কেড়ে নেয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা তানভীরের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে।
হামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
আহত তানভীর কাদের সিকদার অভিযোগ করে বলেন,
‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীর অনুসারীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তারা আমাদের প্রচারণার ব্যানার কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে তারা আমার মাথায় আঘাত করলে আমার মাথা ফেটে যায় এবং আমি গুরুতর আহত হই।’
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইরুল হাসান আরিফও এই হামলার বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির প্রচারণার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরাই আমাদের সংগঠক তানভীর কাদেরের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং তাকে আহত করেছেন।’
তবে, এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বিএনপি নেতা লেয়াকত আলী বলেন,
‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি এবং আমার কোনো নেতাকর্মী এই হামলা বা মারধরের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে একটি মশাল মিছিল সম্পন্ন করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। এনসিপির পক্ষ থেকে আনা হামলার অভিযোগটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।’
হামলার পেছনের ঘটনাপ্রবাহ
এই হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার জেরে বাঁশখালী পৌরসভায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেতাকর্মীরা তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে ইঙ্গিত করে একটি বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বাঁশখালী পৌরসভার মিয়ার বাজার থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে তারা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কুশপুতুল দাহ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পরপরই এনসিপি সংগঠকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা দুটি দলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।
পুলিশের তদন্ত
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এই ঘটনা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা হামলার খবর শুনেছি এবং এ বিষয়ে অবগত আছি। আহত ব্যক্তির মাথা ফাটানো এবং প্রচারণার ব্যানারে আগুন দেওয়ার বিষয়েও আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। তবে, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’ পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে।