কক্সবাজারের চকরিয়ায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি এই ঘটনাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের অনুসরণ বলে মন্তব্য করেছেন।

শনিবার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন আচরণ আবারও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবেই, কিন্তু সহিংসতা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। এনসিপির মঞ্চে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির সমালোচনামূলক আচরণ

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তার বিবৃতিতে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিএনপি এখন নিজেদের নেতাদের সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করছে, ঠিক যেভাবে আওয়ামী লীগ শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে ‘পবিত্র’ বানিয়েছিল। তার অভিযোগ, বিএনপি তাদের দ্বিতীয় সারির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। এর ফলস্বরূপ এনসিপির ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, যা একটি নতুন স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চকরিয়ার সমাবেশে এনসিপি নেতারা সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তারা কেবল সাধারণভাবে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের সমালোচনা করেছিলেন। এরপরেও যদি বিএনপির পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়, তাহলে কি জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই এসব চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত? এই প্রশ্ন উত্থাপন করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

গণতান্ত্রিক আচরণ ও ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বিএনপির প্রতি অসহিষ্ণু ও আক্রমণাত্মক রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন ইতিবাচক রাজনীতি চায়। ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের’ পর জনগণ আর কোনো সহিংসতা দেখতে আগ্রহী নয়। তিনি বিএনপির প্রতি তাদের কর্মীদের সংযত রাখতে এবং গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। ভিন্ন মতাদর্শের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, কিন্তু সহিংসতা কেবল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল দলের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।