শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা শনিবার (১৯ জুলাই) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে একটি আবেগঘন বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁরা জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ ঘোষণা করবেন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবেন। তিনি সমাবেশে বিচার ছাড়াই কোনো টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলে জোর দিয়ে বলেন।

সমাবেশে দাবি ও হুঁশিয়ারি

আলভির বাবা সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে দাবি করেন যে দেশের জন্য জীবন দিল ২ হাজার মায়ের সন্তান; সেই মর্যাদা রক্ষা করতে খুব দ্রুত হত্যাকারীদের বিচারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি সরকারের কাছে সরাসরি অনুরোধ করে বলেন, “আপনারা জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ ঘোষণা করবেন। ২ হাজার মায়ের সন্তান দেশের জন্য আজকে জীবন দিল, আপনারা খুনিদের বিচার দ্রুত করুন। বিচার নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো টালবাহানা করবেন না।”

পুলিশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বক্তব্যে আলভির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদীর দোসরদের পুনর্বাসন করছে। তিনি বলেন যে তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে মামলা করা হলেও পুলিশ এখনও আসামিদের গ্রেফতার করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হাসিনার আমলে যে পুলিশ নিয়োগপ্রাপ্ত ছিল এবং যারা তখন চাকরিতে ছিলেন, তারা আজও চাকরিতে আছেন; এই অবস্থায় তারা কীভাবে হত্যাকারীদের ধরবে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করে জানান, আসামিদের ধরার কথা বললে তাঁদের বলা হয় যাচ্ছে, যাবো—কিন্তু বাস্তবে গ্রেফতاری হচ্ছে না এবং সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। আলভির বাবা এই ধরনের বিলম্বকে সরকারের টালবাহানা এবং অবহেলা হিসেবে আখ্যা দেন এবং তাত্ক্ষণিক বিচার ও julio সনদ ঘোষণা দাবি করেন।

হত্যাকাণ্ড ও পরিবারের অবস্থান

আলভির বাবা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তার ছেলে গত আগস্টের ৪ তারিখ মিরপুর-১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় একটি বছর অতিবাহিত হয়েছে, তারপরও তারা বিচারের ন্যূনতম কিছু দেখতে পাচ্ছেন না। বিচারের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে পরিবার ও সমর্থকরা উত্তেজিত ও হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন।

“আমি শহীদদের বিচার এবং জুলাই সনদ দ্রুত ঘোষণার আহ্বান জানাচ্ছি,”

সমাবেশে এই দাবিগুলো জানানোর পাশাপাশি আলভির বাবা বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং অভিযুক্তদের ত্বরিতে গ্রেফতারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। শেষের দিকে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে তারা কোনো টালবাহানা মেনে নেবেন না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।