রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী আবেগঘনভাবে বক্তব্য দিয়ে তার ভাই হত্যার বিচার দাবি করেছেন এবং বিচারের আগে দেশে আর কোনো নির্বাচনের প্রয়োজন নেই বলে বলেন। সমাবেশে তিনি বিচার না হলে শহীদদের ফেরত চাইবার কথাও বলেন।

সমাবেশে উপস্থিতি ও বক্তব্যের লক্ষ্য

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে রমজান আলী অংশগ্রহণ করেন এবং তার বক্তব্যে তিনি একটিই মূল দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই যে ঘটনায় আবু সাঈদ পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে জীবন দিয়েছিলেন, সেই ঘটনার সঠিক বাস্তবতা ও হত্যার বিচারের দায়বদ্ধতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওই ঘটনার বিচারের দাবি তার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

বিচারের দাবির বিস্তারিত

সমাবেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন যে, ঘটনার কারণের বাস্তবতা আজ পর্যন্ত পাওয়া গেছে কি না এবং যদি না পাওয়া যায় তবে তাদের দাবি কী হতে পারে। রমজান আলী দাবি করেন, শহীদ ভাইয়ের হত্যার বিচার না হলে তাদের ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো সহায়তা নয়, রীতিমতো বিচারের দাবি তাদের প্রকৃত দাবি। তিনি আরও বলেন যে দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যার বিচার এখনো হয়নি।

“আমি আজ এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছি শুধু একটি দাবি নিয়ে। সেটা ১৬ জুলাই যখন আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়েছিল যে কারণে, সেই কারণের বাস্তবতা কি আমরা আজ পেয়েছি? সেই শহীদ ভাইয়ের হত্যার বিচার যদি আমরা না পাই, তাহলে আমাদের এই শহীদ ভাইদের আমরা ফেরত চাই।”

নির্বাচন ও সাধারণ দাবি

রমজান আলী সমাবেশে পুনরায় উল্লেখ করেন যে দেশের নির্বাচনের আগে শহীদদের হত্যার বিচার অগ্রণ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যদি এই হত্যার বিচারে ফ্যাসিবাদী শক্তির অংশ যারা দায়ী তাদের লাইনে আনা হয়, তখনই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভাব্য হবে এবং মানুষের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তিনি সমাবেশে যে মূল বার্তাটি দিয়েছেন তাতে বিচারবঞ্চিত শহীদদের ওপর জোর দিয়ে সেই বিচারের অনুশাসন প্রাধান্য পেয়েছে।

রমজান আলীর বক্তব্যে সমাবেশে অংশ নেওয়া অন্যান্য নেতারা ও শ্রোতারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তিনি তার বক্তৃতায় বারবার একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিচার শেষ না হলে অন্য কোনো নির্বাচনের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচ্য বিষয়টি দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার দিকটিও তুলে ধরেন।

সমাবেশে উত্থাপিত এসব দাবি ও অনুরোধের মধ্য থেকে প্রধানত হত্যার বিচারের দাবি এবং বিচারের আগে নির্বাচন না হওয়ার আহ্বানই প্রাধান্য পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান আলী দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শহীদ ভাইদের স্বীকৃতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন।

সমাপ্তিতে রমজান আলীর ওই বক্তব্য ও সমাবেশে উত্থাপিত দাবিগুলো একই নিয়মে দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় স্থান পাবে বলে সমাবেশের সংক্ষিপ্ত ভাবধারায় প্রতীয়মান হয়েছে।