জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দলীয় নয়, জাতীয় ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-র গণভবনে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই জাদুঘরটি যেন কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র না হয়ে উঠে, বরং এটি যেন জাতীয় ইতিহাস চর্চার বস্তুনিষ্ঠ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইতিহাস উপস্থাপনে প্রকৃত সত্যটাই মানুষের সামনে উঠে আসা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সর্বস্তরের জনগণ এবং নতুন প্রজন্ম সেই ইতিহাসকে সঠিকভাবে ধারণ করতে পারে। পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভবনের ঐতিহাসিক রূপান্তর ও অতীত সিদ্ধান্ত

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এই গণভবন থেকেই তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধান শেখ হাসিনা জনগণের ওপর সব ধরণের অপশাসন চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতো। সর্বসাধারণের সম্পদ ও অর্থ লুটপাট করার মতো জনবিরোধী কাজ পরিচালিত হতো এখান থেকেই। এই প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে জাতীয় সংসদ সহ রাজপথের আন্দোলনের নানা পর্যায়ে তারা বারংবার দাবি জানিয়ে আসছেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার জাদুঘরের কাঠামোগত ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে।

ইতিহাস বিকৃতি ও বৈষম্যের অভিযোগ

তবে বর্তমান রূপায়ণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, জাদুঘরের প্রাথমিক নকশায় সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস ও স্মৃতি সম্পর্কিত যে সেগমেন্টগুলো রাখা হয়েছিল, তা রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইতিহাস প্রদর্শনে একপেশে মনোভাব দেখানো হচ্ছে এবং বিএনপি-র আন্দোলন সংগ্রামকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিগত ১৬ বছরে দেশের স্বৈরাচার ও চরম ফ্যাসিবাদের প্রসারে ভারত সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল হয়তো ওই দেশের অবস্থানকে ভয় পাচ্ছে। তবে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টার চেয়ে “জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ” হওয়া উচিত।

জনআকাঙ্ক্ষা এবং জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের দাবি

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান স্মৃতিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন জেলা, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অসামান্য অবদানকে টাইমলাইন অনুসারে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা দরকার। পরিচিত ও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিদের প্রাধান্য না দিয়ে তৃণমূলের অংশগ্রহণকারীদের ত্যাগকে সামনে আনা উচিত। তিনি জাদুঘরের পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে সেখানে দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাই এটি পরিচালনা করতে হবে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে যারা জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত চেতনা ধারণ করেন। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

#জুলাইস্মৃতিজাদুঘর #নাহিদইসলাম #জাতীয়ইতিহাস #বাংলাদেশরাজনীতি