বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রক্তচক্ষু ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের আন্দোলন থামানো যাবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এক আল্লাহ ছাড়া তারা কাউকে ভয় করেন না এবং একমাত্র আল্লাহই তাদের চলমান আন্দোলন বন্ধ করার ক্ষমতা রাখেন। শনিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জাতীয় সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই সমাবেশে তিনি সংগঠনের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সৎ ও দক্ষ নাগরিক গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রথম সভাপতি মীর কাশেম আলী, দ্বিতীয় সভাপতি কামারুজ্জামান এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ বহু নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ‘জুডিসিয়াল কিলিং’-এর অভিযোগ তোলেন, যা তাদের আন্দোলনের ইতিহাসে একটি নির্মম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

আন্দোলন ও বিচারহীনতার অভিযোগ

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, জুলাই মাস তাদের ইতিহাসের পাতায় কেবল কষ্টের মাস নয়, বরং এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও বিজয়ের প্রতীক। তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘শহীদ পরিবারগুলো’ বিচারহীনতার এক চরম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। জাহিদুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ এবং ‘আকাঙ্ক্ষার’ জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো স্বাভাবিক পন্থায় ক্ষমতায় আসেনি, বরং হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা আজ ক্ষমতা ভোগ করছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংবিধানের হাইকোর্ট দেখানোর আগে একটি ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার জোরালো দাবি জানান।

শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো সন্ত্রাস ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, একের পর এক সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও শিক্ষার মৌলিক সংস্কারের জন্য একটি কার্যকর কমিশনও গঠন করা হয়নি। তার মতে, পাশ্চাত্য ও পার্শ্ববর্তী দেশের মূল্যবোধ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তিনি একটি নতুন আদর্শিক, জাতীয় এবং মূল্যবোধনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু মহল এই নির্বাচন বিলম্বিত করছে, কারণ তারা পুরাতন রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যের শেষ অংশে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, তাদের এই দীর্ঘ পথচলা অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তিনি প্রয়োজনে আবারও জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দৃঢ়ভাবে বলেন যে, দেশের মাটিতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাদের আন্দোলনের প্রতি অবিচল সংকল্প এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের আপসহীন অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।