ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন সোমবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা। তবে, আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে, নগর ভবনের প্রশাসক এবং প্রকৌশলীদের কক্ষগুলোতে তালা ঝুলিয়ে রাখা হবে। গত রোববার (২২ জুন) ৩৯ দিনের মতো বিক্ষোভ শেষে নগর ভবনে তালা দেওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আন্দোলনকারীরা আরও জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের তালা খোলা হলেও প্রশাসক ও প্রকৌশলীদের কক্ষগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের কোনো বিল ছাড় দিতে দেওয়া হবে না বলে ‘ঢাকাবাসীর’ ব্যানারে পরিচালিত এই আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, ফ্যাসিবাদী আমলের দোসরদের নগর ভবন ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নতুন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা প্রতিহত করা হবে।
আন্দোলনের মূল দাবি
‘ঢাকাবাসীর’ ব্যানারে পরিচালিত আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাবেক সচিব মশিউর রহমান বলেছেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ গ্রহণ না করিয়ে আদালত ও সংবিধান অমান্য করা হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে অপসারণ করতে হবে। তিনি আন্দোলনরত ঢাকাবাসীকে উপদেষ্টার সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং জরুরি নাগরিক সেবাসমূহ নির্বিঘ্ন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান
মশিউর রহমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভাণ্ডার ও ক্রয়, হিসাব ও অডিট, সমাজকল্যাণ, আইন, রাজস্ব, সম্পত্তি, পরিবহন, বিদ্যুৎ সার্কেল, যান্ত্রিক সার্কেল, সংস্থাপন, নিরাপত্তা, জনসংযোগ, আইসিটি সেল, নগর পরিকল্পনা বিভাগ এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নিজ নিজ অফিসে কর্মরত থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি যেসব নাগরিক সেবা সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে:
- জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশান সনদ
- বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ইস্যু
- পৌর ও বাজার কর আদায়
- ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন
- ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও করোনা প্রতিরোধ
- সড়ক বাতি প্রজ্বলন সচল রাখা
দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রতিরোধ
জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। তারা সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এমন ফ্যাসিবাদী, বেআইনি কার্যকলাপের জবাব দেবে। কোনো দালাল শ্রেণি, স্বৈরাচারের দোসর, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর, দুর্নীতিবাজ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বা আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহের কোথাও প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের দেখা মাত্রই প্রতিহত করা হবে। নাগরিক সেবা প্রদানে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি ডিএসসিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। তাই, সব প্রকার নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে আন্দোলনকারীরা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।
এই আন্দোলনের মাধ্যমে ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং নগর ভবনের কার্যক্রম আংশিকভাবে সচল রাখার পাশাপাশি মূল প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।