জনগণের অর্থ ব্যয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল না এলে তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের জন্য একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রবিবার (২২ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের পঞ্চম দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় স্বার্থে ন্যূনতম একটি বিষয়ে হলেও সবার একমত হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারলে রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

আলোচনার বিষয়বস্তু ও সিদ্ধান্তহীনতা

সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, আজকের আলোচনায় কোনো বিশেষ সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি নিজেই প্রশ্ন তোলেন যে, জনগণের অর্থ ব্যয় করে এতক্ষণ আলোচনার পর যদি কোনো ফলাফল না আসে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক হবে। তবে, তিনি এখনই হতাশা প্রকাশ করতে চান না। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা তাদের মতামত কমিশনকে জানিয়েছেন, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা এখনো বলা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে একটি ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, যেন ন্যূনতম বিষয়গুলোতে একমত হয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও সাংবিধানিক মূলনীতি

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় কেউ কেউ পরপর দুই বা তিন মেয়াদের পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন, যার পর কেউ আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে, বিএনপি এই বিষয়গুলোকে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি), রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এবং সংসদের মতো আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেছে। এই জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য কমিশন প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে দুই দিন করে সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কমিশনকে জানাবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যেতে চায়। তিনি আরও জানান, যদি পঞ্চম সংশোধনী পুনর্বহাল হয়, তাহলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র এবং সামাজিক সুবিচার—এই বিষয়গুলো সংবিধানে উল্লেখ রাখতে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই।

নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ

আলোচনার তিনটি বিষয়ের মধ্যে প্রথম দুটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়ায় তৃতীয় বিষয়টি, অর্থাৎ নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের জন্য স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি এদিন আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়টি পরবর্তী আলোচনায় স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি সর্বসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা।