বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল সম্প্রতি দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো বা দলের সুবিধা অনুযায়ী হওয়া উচিত নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ায় এই আহ্বান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার (২১ জুন) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ পেশাজীবী বিভাগের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচন ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, জনপ্রশাসন এবং বিচার বিভাগে মৌলিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এই ধরনের সংস্কার রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়, বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি এই সংস্কারগুলো না করা হয়, তাহলে আরও ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সীমাহীন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রায় শূন্য। কার্যত রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত বক্তব্যই পাঠ করতে হয়। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। এই সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণ সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এক রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন এগিয়ে আনার ঘোষণা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতির সামনে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য। তার অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গণহত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করে চলেছে। এই ষড়যন্ত্র দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনও দলীয় স্বার্থে সরকারের কাছে কিছু দাবি করেনি, বরং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করেছে। ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক বর্জনের পরও প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে ফোন করে সহযোগিতা চাইলে তারা বৈঠকে যোগ দিয়ে গঠনমূলক মতামত দেন। তবে এই সহযোগিতার কারণে জামায়াতকে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের নির্মম শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, অনেক নেতাকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হয়েছে, তবুও তারা অপশক্তির কাছে আপস করেননি। পেশাজীবীদের ভূমিকা ও জাতীয় দায়িত্ব মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেশাজীবীদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পেশাজীবীরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ডা. আতিয়ার রহমান এবং আমিনুর রহমান।