একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দল এবং এন সি পিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ঐকমত্য পোষণ করেছে। তবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) সহ তিনটি রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। অন্য দুটি দল হলো বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিবি) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম)। গত রবিবার (২২ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ৩৩টি দলের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শেষে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, তিনটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বাকি সবাই এই মত দিয়েছে যে, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবেও এমন মেয়াদের কথা উল্লেখ ছিল। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে ভিন্নমত থাকায় আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। পরবর্তী বৈঠকের আগে পারস্পরিক মতবিনিময়ের জন্য দুদিন সময় নেওয়া হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় অধিবেশনের পঞ্চম দিনের সংলাপ এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শুরু হয়। এই সংলাপে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেন যে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে নয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে সাংবিধানিক কমিশনের ভূমিকা এবং সরাসরি নির্বাচনের প্রশ্নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, কমিশন একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে কাজ করতে আগ্রহী।

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, কমিশন দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। এসব বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে সবার মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্যের পথে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই হবে। তিনি জানান, যদি শেষ পর্যন্ত ঐক্য না হয়, তবে যে দল বা নেতারা দ্বিমত পোষণ করেন, তাদের মতামত জনগণের কাছে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩৩টি দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি পৃথক অধিবেশন সম্পন্ন করেছে। এসব প্রাথমিক সংলাপে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও কিছু মৌলিক প্রস্তাবে দ্বিমত দেখা যায়, যা সমাধানের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন ছিল। এই দ্বিমতগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত ১৭ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শুরু হয়েছে। এই চলমান সংলাপের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করে একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছানো, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি সম্মিলিত পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে একটি সাধারণ বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে দেশের শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।