জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজ দলের এক নারী নেত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাকে পাঁচদিনের মধ্যে অভিযোগ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছে দল। তবে সারোয়ার তুষার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ও কনভারসেশন ভাইরাল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও ব্যাখ্যা দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব মো. আখতার হোসেন জানতে চেয়েছেন। উত্থাপিত অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দলের রাজনৈতিক পর্ষদ ও তদন্ত কমিটি বরাবর পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার তুষারকে এনসিপির সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের যৌথ নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট

গত সোমবার প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর সারোয়ার তুষারের একটি ফোনালাপ ফাঁস করেন। এই ফোনালাপে এনসিপির এক নারী নেত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার নিজ দলের নারী নেত্রীকে হয়রানি করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সারোয়ার তুষারের আত্মপক্ষ সমর্থন

সারোয়ার তুষার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ও কনভারসেশন ভাইরাল করা হয়েছে এবং স্ক্রিনশটের ওই কনভারসেশনগুলো তার নয়। তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দল স্বপ্রণোদিত হয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং তিনি লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন এবং মানুষ হিসেবে তার উন্নতির সুযোগ আছে। তিনি কোনো অপরাধ করেননি দাবি করে বলেন, এই স্মিয়ার ক্যাম্পেইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আমার দলের কেন্দ্রীয় একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নারী সহকর্মীকে যেভাবে অপমান করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার ছবি জুড়ে দিয়ে, জঘন্য কুৎসিত কথাবার্তা লিখে, ভিডিও বানিয়ে আমার আর তার নামে প্রচার করা হচ্ছে। যারা এই কুৎসিত কাজগুলো করছেন, দয়া করে করবেন না। রাজনৈতিক বিরোধিতা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে রাখার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, তার দলের নারী সহকর্মীরা এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেন, তার সঙ্গে তাদের জড়িয়ে এই নোংরামিগুলো না করার জন্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তারা সম্মানিত নারী এবং রাজনীতির বাইরেও তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে। সারোয়ার তুষার দাবি করেন, তার তিন মাস আগের ব্যক্তিগত কথোপকথন কাটছাঁট করে পরিপ্রেক্ষিহীনভাবে অনলাইনে ছেড়ে দিয়ে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে। তিনি জানান, তিনি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দেননি এবং এ ব্যাপারে তার নামে ফেসবুকে যা প্রচার করা হচ্ছে তা সর্বৈব মিথ্যা। তিনি তার বক্তব্য দলের কাছে লিখিতভাবে পেশ করবেন বলে জানান। ভবিষ্যতে আরও পরিশীলিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সারোয়ার তুষার তার সমালোচক ও বিরোধীদের প্রতি রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননে পর্যবসিত না করার আহ্বান জানান।