জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন। সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর গেন্ডারিয়া-ওয়ারী জোনে জামায়াতে ইসলামীর থানা ও ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. মাসুদ বলেন, কোনো একক দলের প্রতি আনুগত্যশীল না হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার সাধন করতে হবে। একইসাথে, গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি জাতির প্রত্যাশা পূরণের জন্য অপরিহার্য।
নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের আহ্বান
জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। এই সংস্কারগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত যা দেশের সকল নাগরিকের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা একটি নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে একক কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত, যেখানে সকল রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা
ড. মাসুদ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গণতন্ত্রকামী সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার সাধন করা, গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা।
তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ড. মাসুদের মতে, তার প্রতি জাতির শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে যে, তিনি জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, একক গোষ্ঠীভিত্তিক আনুগত্য জাতির প্রত্যাশাকে ব্যাহত করতে পারে এবং এর ফলে দেশে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই সরকারের উচিত জনগণের মুখ ও চোখের ভাষা বোঝা এবং তাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা।
দলীয় দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে ড. মাসুদ বলেন, ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে অতীতের তুলনায় আরও বেশি ত্যাগ ও কোরবানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামী বিধান অনুসরণ করেই জাতির মুক্তি সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান। এছাড়াও মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা মীর আমিরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, গোলাম আজম, কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।