জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, বিশেষ করে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। সারজিস আলম গত সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তার ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি লেখেন, “অভ্যুত্থানের সময় তারা রেমিটেন্স শাটডাউন দিয়ে অভ্যুত্থানকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছিলেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রবাসীদের সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তি এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন যে, দেশের অর্থনীতির ভিত্তি যে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো প্রবাসী ভাইদের পাঠানো রেমিটেন্স। এই রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকারের গুরুত্ব

সারজিস আলম তার পোস্টে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের প্রশ্নটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান এত বিশাল এবং অনস্বীকার্য, তখন তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থাৎ ভোটাধিকারের বিষয়ে কেন নীরবতা পালন করা হচ্ছে? তিনি এই নীরবতাকে অগণতান্ত্রিক এবং প্রবাসীদের প্রতি অবিচার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, দেশের উন্নয়নে যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখছেন, তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি সহজ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। সারজিস আলম মনে করেন, নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে যা প্রবাসীদের জন্য ভোট দেওয়াকে সহজলভ্য করে তোলে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবাসীরা যেন কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৬ সালের নির্বাচন এবং প্রবাসীদের ভূমিকা

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা ২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, “২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রবাসী ভাই-বোনদের ভোটাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।” এই দাবিটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তার মতে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকার গঠনে তাদের মতামত প্রতিফলিত হবে।

সারজিস আলমের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই দাবির পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এনসিপি নেতার এই জোরালো অবস্থান প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।