শেখ হাসিনার দৌরাত্ম্য বন্ধে ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান

ঢাকা শহরে প্রচারিত এক সুনির্দিষ্ট লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি এক বিশেষ দায়িত্বশীল আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত ও সমস্ত অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করতে হলে প্রতিবেশী দেশ ভারত-এর ওপর দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিগত শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অমানবিক নৃশংসতা ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র বিশ্ব দরবারে সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার তাগিদ প্রদান করেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্কের দূরগামী পরিণতি

বিবৃতিতে আতাউর রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন যে, প্রবাসে আশ্রয় প্রদান করে এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একটি স্থায়ী শত্রুতামূলক সম্পর্ক জিইয়ে রাখার যে বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিজেদের জন্যই মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে। তিনি জোর দিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “একটি নির্দিষ্ট স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে অন্ধ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ-এর সুবিশাল জনগণের মনস্তাত্ত্বিক আশাকাঙ্ক্ষা ও বন্ধুত্বের হাতকে উপেক্ষা করার এই ভুল নীতি কোনোভাবেই ইতিবাচক ফল দেবে না।” জনগণের সার্বিক অনুভূতির চরম অবমূল্যায়ন করে কোনো নির্দিষ্ট ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে অহেতুক সমর্থন জানানোর অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিরূপ পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলবে।

আন্তর্জাতিক প্রচার প্রসার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিরোধ

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও গভীরভাবে আলোকপাত করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তাদের বিশেষ কৌশলগত দক্ষতা ও পারঙ্গমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বারবার প্রমাণ করেছে। তাই বর্তমান সময়োপযোগী সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব হবে আওয়ামী সরকারের ভয়াবহ নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত তথ্য বৈশ্বিক অঙ্গনে সঠিকভাবে পৌঁছানো। তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে বলবো, শেখ হাসিনার সব ধরনের অপতৎপরতা থামাতে ভারতের ওপর সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আমাদের সঠিক সত্যের প্রচার আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।”

ফ্যাসিবাদের দ্রুত বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্র সংস্কার

দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার সুসংহত করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির বিচারে কোনো প্রকার ছাড় বা শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না বলে সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন এই শীর্ষ নেতা। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি কোনো অবস্থাতেই ধীরগতির বা স্লথ করা চলবে না। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের বিষবৃক্ষ ও শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে না পারলে, স্বৈরাচারী অপশক্তি বারবার দেশে ফিরে আসার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোষণা দিয়ে একটি অস্থিতিশীল ও ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করার অশুভ সুযোগ গ্রহণ করবে। তাই সেই সমস্ত চক্রান্তের রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে অত্যন্ত দ্রুততা ও ব্যাপকতার সঙ্গে অপরাধীদের আইনগত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি একই সাথে গুরুত্বের সঙ্গে জোর দাবি জানান যে, দেশের মৌলিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার কাজের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি করতে হবে। সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই কেবল স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী পরাজয় সুনিশ্চিত করা যাবে।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #জাতীয়তাবাদ