দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের তীব্র সমালোচনা জামায়াত আমীরের

ঢাকা শহরের এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমীর ড. শফিকুর রহমান বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদায়নের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বৈরাচার, বৈষম্য এবং অবিচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লজ্জাজনক দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের সেই প্রত্যাশাকে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

মেধা ও দেশপ্রেমের বদলে রাজনৈতিক বিবেচনা

রাজধানীতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আয়োজিত এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধা ও দেশপ্রেমকে প্রাধান্য না দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পরিষদসহ প্রশাসনের সর্বত্রই এখন “লজ্জাজনক দলীয় নিয়োগ” চলছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া কি আসলে এক নতুন ধরনের কোটা ব্যবস্থা নয়? এর ফলে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা দুর্নীতি বিস্তারে সহায়তা করছে।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যারা এই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন, তারা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য শহীদ হননি। গণমানুষ চেয়েছিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশ আবারো পুরনো ও অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আন্দোলনে অবদান এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিতর্পণ করে জামায়াত প্রধান বলেন, যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে শুধুমাত্র একটি সাধারণ শিক্ষার্থী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে দূরত্ব বজায় রেখেছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী কোনো দ্বিধা না রেখে শুরু থেকেই ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পর দল হিসেবে তারা কখনোই এর একক কৃতিত্ব দাবি করেনি।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমরা নিজেদের আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করিনি, কিংবা আমাদের শহীদদের সংখ্যা গণনা করে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টাও করিনি।” এমনকি তৎকালীন পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি না তুলে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই প্রধান দায়িত্ব মনে করেছিলেন।

চাঁদাবাজি রোধ ও শহীদ পরিবারের আত্মত্যাগ

পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগস্ট মাসের ৬ তারিখের পর সারা দেশে চরম মাত্রায় চাঁদাবাজি ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।

শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সাহায্যের চেয়ে তাদের সন্তানের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি এক আবেগঘন ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, এক শহীদ পিতা তাদের দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেটি অন্য এক দরিদ্র শহীদ পরিবারকে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিদের এই দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #জামায়াতে_ইসলামী #সংবাদ