সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ঘোষিত এই কর্মসূচি আগামী ২৬ মে থেকে শুরু হয়ে ২ জুন পর্যন্ত চলবে।

যৌথ সভায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, আগামী ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এই কারণে দলের পক্ষ থেকে শাহাদতবার্ষিকীর কর্মসূচির সময়সীমা কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে আট দিনে আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বিস্তারিত

জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারাদেশে সকল দলীয় কার্যালয়ে দুই দিন দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। দলের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তার স্মরণে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন

  • ২৯ মে, বুধবার, বিকেল ৩টায়: রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
  • ৩০ মে, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে: শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একই দিনে আলোচনা সভা এবং দুস্থদের মধ্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।
  • ৩০ মে, বৃহস্পতিবার: দেশের বিভিন্ন মসজিদসমূহে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গণদোয়ার আয়োজন করা হবে।

দেশব্যাপী আয়োজন

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দুস্থদের মধ্যে চাল, ডাল এবং বস্ত্র বিতরণের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সারাদেশে জেলা, উপজেলা, থানা এবং পৌরসভা ইউনিটগুলোও জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং বস্ত্র বিতরণ। এই স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচিগুলো দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে।

যৌথ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী, আবদুস সালাম আজাদ এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হবে।