বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান সরকার নির্বাচন আয়োজনে কিছুটা পিছপা হচ্ছে বলে তাদের মনে হচ্ছে। তিনি এই মন্তব্যটি করেন শনিবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী তরুণ দল কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের বাস্তবায়ন এবং দেশে দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানানো।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সংস্কার করা শেখ হাসিনাকে সংস্কার করার চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি ধৈর্যশীল রাজনৈতিক দল এবং তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে চলে। ফারুক আরও উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছর ধরে বিএনপি এবং অন্যান্য গণতন্ত্রকামী দলগুলো দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে নিরলসভাবে আন্দোলন করে আসছে।
নির্বাচন ও প্রফেসর ইউনূসের প্রসঙ্গ
জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূসের প্রতি দেশের মানুষের আস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রফেসর ইউনূস দেশের একজন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি এবং তার প্রতি দেশের মানুষের অনেক আশা ও ভরসা রয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের নয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন কেন ‘করিডোরের’ প্রশ্ন উঠছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ফারুকের মতে, দেশের জন্য যে ধরনের মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই তার ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, বড় বড় অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিবর্তে দেশের সাধারণ মানুষ প্রফেসর ইউনূসের মধ্যস্থতায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা দৃঢ়ভাবে জানান যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশে আর কোনো ভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন প্রফেসর ইউনূসের মধ্য দিয়েই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকার নির্বাচন দিতে যেন কিছুটা পিছপা হচ্ছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান
বিরোধী দলের সাবেক এই চিফ হুইপ প্রফেসর ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“আমরা আপনাকে নিয়ে অহংকার করি, সেই অহংকারকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবেন না।”
তিনি আরও বলেন,
“পাথরের ধাক্কা না খেলে নদী দিক পরিবর্তন করে না।”
এই উপমা ব্যবহার করে তিনি বর্তমান সরকারকে জনগণের রোষানলে পড়ার আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য জোর আহ্বান জানান।
ফারুক অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো একজন নেতাকে শেখ হাসিনা অপমান করেছেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি দিনের পর দিন অত্যাচার করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির সংযম কম নয়, তবে দলের নেতাকর্মীদের মনে এখন একটি গভীর কষ্ট রয়েছে। এত আন্দোলন এবং পরিশ্রমের পর নয় মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই তারা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করেছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।