বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় এবং গণতন্ত্র সমৃদ্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শনিবার (১৭ মে) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিমানবন্দর থানা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কর্মী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। দুদু তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির ভূমিকা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, অনেকেই বিএনপির নামে সমালোচনা করছেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোতে পারবে না। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যাবে না। তার মতে, গত ১৬-১৭ বছরে বিএনপি যত মামলার শিকার হয়েছে, পৃথিবীতে অন্য কোনো সংগঠন এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি।

খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ

বিএনপির এই নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় তথাকথিত বিচারের নামে সাজা দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ছয় বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। দুদু বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি নারী শিক্ষাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য কাজ করেছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ পরিচালনা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন। শামসুজ্জামান দুদু শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া উভয়কেই বিএনপির অহংকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান “ফ্যাসিস্ট” সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে তারেক রহমানও তাদের অহংকার।

শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন এবং রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তার নামে কোনো প্লট, গাড়ি, বাড়ি বা ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বিএনপিকে ঠেকানোর জন্য চারপাশে এক ধরনের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচন ও সরকারের সমালোচনা

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ড. ইউনূস একজন ভালো মানুষ। তার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের কাজে আপত্তি নেই, তবে তিনি নির্বাচনের দাবি জানান। ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নামে তিনটি নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছেন। দুদু বলেন, একজন মানুষের ন্যূনতম লজ্জা থাকা উচিত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তা ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পুরো পরিবার চোর। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এমন চোর পরিবার দ্বিতীয়টি নেই। তিনি মুজিব পরিবারের সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করে বলেন, কেউ এসে বলুক যে তারা চুরি করেননি, খুন করেননি বা মামলাবাজি করেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনাই শেখ মুজিবকে দ্বিতীয়বার হত্যা করেছেন।

সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, শেখ মুজিব নিজেই ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে এটি চোরের দল, এটি পচে গেছে, গলে গেছে। শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন, শেখ মুজিব ও তার কন্যা শেখ হাসিনার মতো এত বড় খারাপ শাসক বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি আসেনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তাদের একটি নির্বাচিত, জনগণের ও দেশপ্রেমিক সরকার আনতে হবে, যা পাশের দেশে পালিয়ে যাবে না বা তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যা হবে বিএনপি সরকার। কর্মী সম্মেলনে জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব রোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর জাসাসের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম স্বপনসহ বিমানবন্দর থানা জাসাসের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।