বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারকে অবিলম্বে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকার সংস্কার নিয়ে জনগণকে অন্ধকারে রেখেছে এবং গত দশ মাসে দেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারেক রহমান সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকার কি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন?”
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার জন্য জোর দেন এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে না করে অচিরেই এই ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেন।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আহ্বান
তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, যার ফলে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, গত দশ মাসে দেশের অভ্যন্তরে এবং সরকারের ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই অস্থিরতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন যে, যদি এই অস্থিরতা বাড়তে থাকে, তবে সরকারের পক্ষে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারকে পরিস্থিতি আরও জটিল না করে দ্রুত একটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার জন্য আহ্বান জানান, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে
চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, করিডোর বা বন্দরের মতো কৌশলগত সম্পদের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া বা না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ারভুক্ত কাজ নয়। এটি কেবল একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তারেক রহমান আরও বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
এনডিএমর অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুলশানের লেকশোর হোটেলে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি এনডিএমর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে এনডিএমর ভাইস-চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান চৌধুরী, মহাসচিব মোহাম্মদ মোমিনুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার শাহেদুল আজম, দপ্তর সম্পাদক জাবেদুর রহমান জনি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।