বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশে দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই মন্তব্যটি তিনি শনিবার (১৭ মে) জাতীয়তাবাদী বাউল দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে করেন।

ড. মঈন খান তার বক্তব্যে গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া পৃথিবীর কোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। তার মতে, একদলীয় শাসনে ক্ষমতা প্রদর্শন করা সম্ভব হলেও এর মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং দেশের সকল মানুষের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ মূলত গণতন্ত্রের আদর্শকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে

বিএনপির এই নেতা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত করতে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করতে। বিএনপি বিশ্বাস করে যে, এই পথেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ এবং অধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যখন এই অধিকারগুলো খর্ব হয়, তখন জাতিগতভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিএনপি তাই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে।

জিয়াউর রহমানের অবদান

ড. মঈন খান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান তার বিদেশ সফরের সময় দেশের গ্রামীণ শিল্পীদের সহযোগী হিসেবে বেছে নিতেন, যা তার জনমুখী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী মনোভাবের পরিচায়ক। তিনি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ড. মঈন খান দৃঢ়ভাবে বলেন যে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে জীবন দিয়েছিলেন এবং সেই গণতন্ত্রকে আবারও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার মতে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এই অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী বাউল দলের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সভাপতি রফিকুল ইসলাম তুহিন, সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন চৌধুরী। তারা সকলেই ড. মঈন খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশই টেকসই উন্নতি লাভ করতে পারে না। তাই, যত দ্রুত সম্ভব একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।