বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি এই কর্মশালায় দৃঢ় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, যেকোনো মূল্যে এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৫) বিকেলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ঐক্যের অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “দৃঢ় ঐক্যের ভিত্তিতে সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু এমন সব বিভাজন ভুলে গিয়ে একটি অপার সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বিএনপির। তার মতে, এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, সেটাই তাদের লক্ষ্য। এই ঐক্যের মাধ্যমেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অভিযোগ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন যে, যখন স্বৈরাচারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি, তখন বিএনপিই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিএনপির আন্দোলন কখনোই অসাংবিধানিক ছিল না এবং তারা সবসময়ই বলেছেন যে, ফয়সালা রাজপথেই হবে। তারেক রহমান অভিযোগ করেন যে, রাজনীতিতে এখন অদৃশ্য শক্তি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে এবং ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্রকারীরা আরও সক্রিয় হচ্ছে। এই শক্তিগুলোর মোকাবিলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন, যা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

উন্নয়ন ও রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান দাবি করেন যে, এ পর্যন্ত যতগুলো বড় উন্নয়ন অর্জন হয়েছে, তার অন্তত ৭০ ভাগই বিএনপির শাসনামলে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের কাছে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে। এই রূপরেখা দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’ উদ্যোগ ও তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিময়

‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, এর সামান্য অংশ অর্জিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের পুরোপুরি বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব নিরসনের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজ করে যেতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি সরাসরি তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, যা তাদের মধ্যে দলের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয় এবং তাদের উৎসাহ সৃষ্টি করে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’। এই কর্মশালার মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।