বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ব্যাংককগামী ফ্লাইট মাঝ আকাশে কেবিন প্রেসার কমে যাওয়ায় জরুরিভাবে ঢাকায় ফিরে এসেছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিয়ানমারের আকাশসীমায় এই ঘটনা ঘটে, যখন ফ্লাইটের যাত্রীরা কেবিনে অক্সিজেনের স্বল্পতা অনুভব করেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্ক নিচে নেমে আসে। পাইলটের দ্রুত ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে বিমানটি নিরাপদে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঢাকা থেকে ব্যাংককগামী বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এয়ারক্রাফট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি দুপুর ১২টায় ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর, যখন বিমানটি মিয়ানমারের আকাশসীমায় ছিল এবং প্রায় ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল, তখন হঠাৎ করে কেবিন প্রেসার কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানের অভ্যন্তরে অক্সিজেনের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে।
কেবিনে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায়, বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যাত্রীদের মাথার ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্কগুলো নিচে নেমে আসে। এই দৃশ্য দেখে ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি অনুধাবন করেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানটিকে দ্রুত ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন, যা কেবিন প্রেসার কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে একটি আদর্শ পদ্ধতি। একই সাথে, তিনি ঢাকায় ফিরে আসার ঘোষণা দেন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই জরুরি পরিস্থিতি চলার পর, দুপুর ২টায় বিমানটি নিরাপদে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ফ্লাইটটি অবতরণের পর বিমানে থাকা সকল যাত্রীকে নিরাপদে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং তাদের জন্য একটি বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আরও জানায় যে, ফ্লাইটের সকল যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, এই ফ্লাইটে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এই ঘটনা বিমানের নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা তুলে ধরেছে, যেখানে পাইলটের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যাত্রীদের রক্ষা করেছে।