তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার দেশে ফ্যাসিবাদকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিক এবং অসুস্থ/অসচ্ছল সাংবাদিকদের কল্যাণ অনুদান ও সাংবাদিক সন্তানদের বৃত্তির চেক বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব

উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, ফ্যাসিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকে যাবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবে না। তার মতে, রাষ্ট্র সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এর জন্য সময় লাগবে। এই নতুন কাঠামো তৈরি হলে, পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক, তারা এটিকে ধরে রাখতে বাধ্য থাকবে।

তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই আন্দোলনে ধাপে ধাপে অগ্রগতি হয়েছে। কোটা সংস্কার, নির্যাতন ও হত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এসব ঘটনার জন্য দায়ী শেখ হাসিনার অবশ্যই বিচার করা হবে। সরকার দমন-পীড়নের মাধ্যমে নয়, সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

ঐক্য ও গণমাধ্যমের ভূমিকা

নাহিদ ইসলাম সবাইকে গত ১৫ বছরে কার কী ভূমিকা ছিল তা ভুলে না গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন আমাদের ঐক্যের শিক্ষা দেয়। সমাজে অনেক ভিন্ন মত থাকতে পারে, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু দেশ, জনগণ ও জাতির সংকটের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সচেতন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে বাংলাদেশকে নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ভ্রান্ত বা ভুল তথ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করছে যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন নয়, তাদের এই দাবি ভিত্তিহীন। সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমগুলোর ওপর কোনো চাপ নেই এবং তারা সত্যটা প্রচার করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। প্রধান উপদেষ্টা সকল গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান এবং সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, ফ্যাসিবাদের দোসররা এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করতে চাইলে, সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সহায়তা

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ে সব প্রতিষ্ঠানেই দলীয়করণ ছিল এবং গণমাধ্যমগুলোর অনেকেই এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবুও অনেক সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে সত্যের ও ন্যায়ের পক্ষে থেকেছেন। যে সময়ে ইন্টারনেট ছিল না, সেই সময়ে তাদের কারণেই প্রকৃত অবস্থাটা জানা গেছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকদের ভূমিকার জন্য তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র ও শ্রমিকদের সঙ্গে সাংবাদিকরাও লড়াই করেছেন এবং তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা পাঁচটি শহীদ পরিবারকে একসঙ্গে পেয়েছি এবং তাদের জন্য ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় কিছু করতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বৃত্তি প্রদানের কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা ফারজানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তথ্য উপদেষ্টা উপস্থিত অনুদানপ্রাপ্ত সবার হাতে চেক তুলে দেন।