আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন ড. মিজানুর রহমান আজহারী মন্তব্য করেছেন যে, কোরআনের নির্দেশনা মেনে চললে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর প্যারেড ময়দানে (শহীদ রজব আলী ময়দান) ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের পঞ্চমদিনে প্রধান মুফাসসিরের আলোচনায় তিনি এই কথা বলেন।
ড. মিজানুর রহমান আজহারী তার বক্তব্যে কোরআনে বর্ণিত আল্লাহ তায়ালার তিনটি আদেশ ও তিনটি নিষেধের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ কোরআনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। একইসাথে, তিনি অশ্লীলতায় না জড়ানো, ইচ্ছাকৃত মন্দ বা অসৎকাজে লিপ্ত না হওয়া এবং কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন না করার নিষেধ করেছেন। ড. আজহারী জোর দিয়ে বলেন যে, এই আদেশ ও নিষেধগুলো সমাজে সঠিকভাবে মেনে চললে আমাদের সমাজ সুখী ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
মাহফিলের আলোচনা ও অন্যান্য বক্তব্য
মাহফিলে আলোচনার একপর্যায়ে ড. মিজানুর রহমান আজহারী আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বিনা অপরাধে কারাগারে বন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাত কামনা করেন।
ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা খাইরুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহেরের সভাপতিত্বে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তার বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রাম প্যারেড ময়দানকে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা সাঈদী বিজড়িত ময়দান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা কোরআনের ছায়াতলে এক ও অভিন্ন। আমাদের এই ঐক্য যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আরও বলেন, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে পারলে দেশ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং গুম, খুন দূর করা সম্ভব হবে। তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তার মতে, দেশে সুখ, শান্তি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শামীম সাঈদী। এছাড়াও বক্তব্য দেন মাওলানা বিএম মফিজুর রহমান, মাওলানা মুনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজাহিদুল ইসলাম, বিআইএ জামে মসজিদের খতিব সাফওয়ান বিন হারুন আজহারী, অলি খাঁ মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক তাওহীদুল হক মিজবাহ। মাহফিলের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাইয়্যেদ আনোয়ার হোসেন তাহের জাবিরী আল মাদানী।