ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, উচ্চশিক্ষিত অনেকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি। তিনি বলেন, অতীতের রাষ্ট্র পরিচালকরা উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরেও সেই প্রমাণ করতে পারেননি এবং এজন্য ৫৩ বছরের রাষ্ট্র পরিচালকরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছে পরিণত হয়েছেন।
রেজাউল করীম এসব মন্তব্য শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় করেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর দাবি জানান এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ করেন।
বক্তব্যের মূল বিষয়ে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম শিক্ষক সম্পর্কিত নীতিগত দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা আদর্শ নাগরিক গড়ার কারিগর।” বক্তব্যে তিনি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কাজের প্রশংসা করে বলেন, সংগঠনটি শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ করে মানুষ গঠনে কাজ করছে।
উচ্চশিক্ষিত অনেকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি।
রেজাউল করীম আরও বলেন, আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিম সন্তান যাতে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করতে পারে সেই লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এই দাবিকে তিনি শক্ত করে বলেন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয় জরুরি হওয়ার ওপর জোর দেন।
কমিটি বিলুপ্তি ও নতুন কমিটি
কাউন্সিলে ২০২৩-২৪ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৫-২০২৬ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খানকে সভাপতি, মাওলানা এ বি এম জাকারিয়াকে সহ-সভাপতি এবং প্রভাষক আবদুস সবুরকে সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়েছে। এই ঘোষণা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পড়ে এবং নতুন নেতৃত্বের কাঠামো প্রকাশ করা হয়।
কাউন্সিলে উপস্থিত বক্তারা
কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক আবদুস সবুর। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন:
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
- মোকামিয়ার পীর সাহেব মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন
- অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. আরিফুল ইসলাম অপু
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কামরুল আহসান
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শহিদুল হক
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল মোমিন
কাউন্সিলে উপস্থাপিত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষকের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়। নতুন কমিটি ঘোষণা এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দাবি অনুষ্ঠানের মুখ্য ইস্যু হিসেবে অবস্থান করে।
অবশেষে কাউন্সিলে উপস্থিতরা জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কার্যক্রম বাড়ানোর ও শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সভা সমাপ্ত করা হয়।