বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের রক্ত শেখ পরিবারের এবং এজন্যই তিনি বিদেশে এমপি হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বলে তার মন্তব্য। রিজভী এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এটিএম খালেদের শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা সভায়।
রিজভীর মূল অভিযোগ
রিজভী বলেন, টিউলিপ লন্ডনে বড় হয়ে লেখাপড়া করেছে এবং ইংল্যান্ডের একজন এমপি দুর্নীতি করবে এটা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। তিনি দাবি করেন, ‘‘তার জিন হচ্ছে বাংলাদেশের শেখ পরিবারের। ওখানে লেখাপড়া করে এমপি হওয়ার পরেও তার জেনেটিকাল যে লাইন সেই লাইন সে ক্রস করতে পারেনি।’
রিজভী রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্প সংক্রান্ত চুক্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী রুশদের সঙ্গে চুক্তিতে ৫০০ কোটি ডলার লেনদেনে শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং টিউলিপ সিদ্দিক ঘুষ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি উল্লেখ করেন যে ওই টাকা মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। রিজভী বলেন, “এটা একদম সুস্পষ্টভাবে গণমাধ্যমগুলোতে এসেছে।”
শর্ত, সমালোচনা ও প্রশ্ন
রিজভী আওয়ামী লীগকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বেশি অপমান করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগের অবদান তুলনামূলকভাবে কম বলে তার মন্তব্য। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উন্নয়নের উপক্রম নেই এবং দলটি বাইরে গেলে সেখানকার মানুষকে অপরাধী মনে করে।
রিজভী আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তিনি বলছেন যে শেখ হাসিনার দুইটি পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে, তবুও ভারত কেন তাকে রাখছে—এমন প্রশ্ন তিনি উত্থাপন করেন।
এটিএম খালেদ হত্যার বিচার ও স্মরণ সভা
রিজভী এটিএম খালেদ হত্যার বিচারের দাবি জানান এবং বলেন, অনেক দিন হয়ে গেলেও বিচার হয়নি, এ বিষয়ে কৃষিবিদদেরও দায় রয়েছে। তিনি এই বিচারের অনিয়মতা নিয়ে সস্ত করেন যে এটি অত্যন্ত কষ্টের বিষয়।
স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামিম, কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব এবং অন্যান্য নেতারা।
সভায় করা এসব মন্তব্য ও অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনের আকারে উপস্থাপিত হয় এবং রিজভী তার বক্তব্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও দায়ার দাবি উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলন ও স্মরণ সভার আলোচনায় উল্লিখিত অভিযোগ, দাবি ও প্রশ্নসমূহ কেবল রিজভীর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত বা প্রামাণিকতা সংযোজন করা হয়নি।