বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কোনোভাবেই স্থির হতে পারছে না। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারতের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
কী বলেন রিজভী
রিজভী বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বনশ্রীতে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এসব মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত যে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের উদাহরণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, “অত্যন্ত অস্থির হয়ে গেছে শেখ হাসিনার জন্য তারা।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘লেডি ফেরাউন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন ওই নেত্রীকে নানা কটূক্তি দিয়ে তুলনা করা যায়। রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ায় কিছু মহল ও নীতি-নির্ধারক ভারতের মধ্যে অস্থির বোধ করছে।
ভারত ও সংখ্যালঘুদের ওপর অভিযোগ
রিজভী আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন সংক্রান্ত অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোথায় অত্যাচার হচ্ছে এবং নিজেই দাবি করেন, অত্যাচার হচ্ছে ভারতের ভেতরেই। রিজভী বিশেষ করে দিল্লিতে জুমার নামাজের সময় পুলিশি আচরণ ও মুসল্লিদের উপর লাঠিপেটার মতো ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন।
এক মন্তব্যে রিজভী বলেন, ইতিহাস সম্পর্কিত ও ধর্মীয় নিদর্শন নিয়ে ভারতের ক্ষেত্রে নানা অনাচার হচ্ছে এবং তিনি উদাহরণ হিসেবে ৪০০ বছরের মসজিদ ভাঙার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। তিনি এসব অভিযোগ তুলে ভারতের নীতি-চিন্তা ও আধিপত্যবাদী মনোভাবকে দায়ী করেন এবং বলেন, আয়তন ও জনসংখ্যার বিশালতা ভারতকে এমন আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করছে।
রিজভী ভারতের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনা শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও ভারত তাদের অস্ত্র বা সেনাশক্তি দিয়ে দেশের মান বা অবস্থান মাপতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, ভারতের কাছে শেখ হাসিনার পতন কাম্য নয় বলে তারা এলোমেলো মন্তব্য করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বার্তা
রিজভী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ক্ষমতা রাজনৈতিক শক্তির কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং অতীতে আটকে যাওয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ভোট সংক্রান্ত অতীত পরিণতি বর্ণনা করে বলেন, সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন।
উপস্থিতরা
- বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন (সভাপতি)
- সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন (সঞ্চালক)
- ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম
- সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন বকুল
সাক্ষাতের সময় রিজভী এসব মন্তব্য করেন এবং উপস্থিত নেতারা কথাগুলো শোনেন।
উপরোক্ত বক্তব্য ও উপস্থিতির বিবরণ সূত্রভিত্তিকভাবে উদ্ধৃত করা হলো এবং কেবল ওই অনুষ্ঠানে করা রিজভীর বক্তব্য ও অভিযোগ-আলোচনাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।