বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বুধবার (১৫ জানুয়ারি) একটি যৌথ বিবৃতিতে এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীদের ওপর এক পক্ষের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচির সময় বিক্ষুব্ধ অবস্থায় থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর অপরপক্ষের হামলা ঘটে। ঝামেলার সময় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। ছাত্রশিবির নেতারা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন ছবি দেখে হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য আহ্বান জানায়।
শিবিরের দাবি ও আভাসিত প্রেক্ষাপট
শিবির বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন মহল দেশ-বিদেশে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল, ব্যর্থ ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টায় ছিল। বিবৃতিতে এটিকে একটি ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে ফ্যাসিস্ট চক্রের গভীর ষড়যন্ত্রের ফলে নির্ধারিতভাবে এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও আহ্বান
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দায়ে দেশে জাতিগত বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ছিল বিদেশি চক্রান্তের অংশ। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ৫ আগস্ট (৩৬ জুলাই) ফ্যাসিবাদ পতনের মধ্য দিয়ে সে বিভাজনের রাজনীতি শেষ হয়েছে এবং নৃতাত্বিক পরিচয়ের আগে তাদের অভিন্ন পরিচয় হিসেবে তারা বাংলাদেশিকে প্রাধান্য দেন।
শিবির নেতারা সব পক্ষকে দেশবিরোধী চক্রান্তে না পড়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পাঠ্যবইয়ে সূক্ষ্মভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উপাদান যুক্ত করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের দাবি
বিবৃতিতে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেছে, ঘটনার ভিডিও ও ছবির ভিত্তিতে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে মতপার্থক্যের গঠনমূলক সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি বলে দেখা হয়েছে।
শিবিরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘেরাও কর্মসূচি, হামলা, লাঠিসোঁটার প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই। বিবৃতিটি শেষ করে নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণ ও আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের উপস্থিতি ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।