আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেছেন, আদালতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রায় দিলেও জনতার আদালতে তাদের মূল্য বিচিত্র—জনগণের কাছে তারা বীর। সোমবার নয়, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান এবং সেখানে এসব দাবি করেন। ওই ই-মেইলটি দল জানিয়েছে ৫ আগস্টের পর পাঠানো প্রথম মেইল, তবে এতে কোনো স্বাক্ষর ছিল না।

বিবৃতির সারমর্ম

বিবৃতিতে নাছিম বলেছেন, ইউনূস সরকারের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কঠোর পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ‘‘ইউনূস সরকারের করায়ত্ত করা আদালতে এসব নেতাকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও জনতার আদালতে তারা বীর। তাদের প্রদর্শিত শক্তি ও সাহস আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পাথেয় হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগ নির্যাতিত নেতাকর্মীদের এসব ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা আজীবন স্মরণ রাখবে।’’

অভিযোগ ও দাবি

নাছিম বিবৃতিতে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগও তুলে ধরেন এবং উপস্থাপন করেন রাজনৈতিক দাবি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গণতান্ত্রিক চেতনার মানুষের ওপর এসব অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’ একই সঙ্গে তিনি ‘‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবি’’ জানান। এই দাবিগুলো ঐ বিবৃতিতেই সরবরাহ করা হয়েছে এবং বিবৃতিতে এগুলোকে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো উঠে এসেছে, ‘‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে ইউনূস সরকার। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নজিরবিহীন অত্যাচার-নির্যাতন, দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। বেআইনিভাবে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে।’’ নাছিম এই বিবৃতিতে আরও দাবি করেন যে দল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতির প্রেক্ষাপট

ঐ মেইল বার্তার বিষয়ে দল বলেছে এটি ৫ আগস্টের পর পাঠানো প্রথম মেইল। বিবৃতিটি কোনো ব্যক্তিগত স্বাক্ষর ছিল না বলে জানানো হয়েছে। নাছিমের বক্তব্যগুলো দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিবৃতিতেই প্রতীয়মান।

‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইউনূস সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনগণের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনূস সরকারের করায়ত্ত করা আদালতে এসব নেতাকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও জনতার আদালতে তারা বীর।’

বিবৃতিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নাছিম এখানে দল ও নেতাকর্মীদের প্রতি সংঘটিত আচরণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর সমালোচনা করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দাবির পুনঃআবেদন করেন।

সংবিধান, বিচার বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিবৃতিতে বিশদ ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি; সেখানে মূলত অভিযোগ, নিন্দা ও মুক্তির দাবি সম্বলিত বক্তব্যই উপস্থাপন করা হয়েছে। বিবৃতিটি দলের নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা কার্যক্রম সম্পর্কে দলীয় তত্ত্ব তুলে ধরেছে এবং সেটিই প্রতিবেদনের শেষাংশে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।