বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ সমাবেশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্যে উপস্থিতরা জুলাই মাসের অভ্যুত্থান দমন ও নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার দাবি জানান এবং অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ ও উপস্থিতি
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল চারটায় সমাবেশ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শেষ হয়। সমাবেশে অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ছাত্র-জনতা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশে একত্রিত হতে শুরু করে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড দেখান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “খুনি হাসিনার বিচার চাই”, “আমার ভাই কবরে হাসিনা কেন বাহিরে” এবং “আবু সাইদ মুগ্ধ,শেষ হয়নি যুদ্ধ”।
প্রধান বক্তব্য ও দাবি
সমাবেশে উপস্থিতরা একযোগে অভিযোগ করেন যে অভ্যুত্থান দমন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, খুন ও গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। বক্তারা দাবি করেন, ঘটনার জন্য দায় শতাংশ হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভা ও হেলমেট বাহিনীকে আনা উচিৎ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করার আহ্বান জানান এবং ঘোষণাপত্র জারি না হলে পাড়ায়-মহল্লায় মানুষের কাছ থেকে মত নেওয়ার কার্যক্রম চলবে বলেও ঘোষণা করেন।
“খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হোক। আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না।”
বিশেষ বক্তব্য ও অন্য অনুষঙ্গ
অভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ারের বাবা মো. আবুল হাসান সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তার ছেলে মিরপুর ১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল এবং শহীদ ও আহত পরিবারগুলো এখনো বিচার পরিপাক দেখতে চান। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে খুনি হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা দরকার।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম সরকারের কাছে গণহত্যার বিচার, পাচার করা অর্থ ফেরত আনার দাবি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আহত যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা প্রদানের দাবি জানান। তিনি গোপালগঞ্জে সমাবেশ যোগ দিতে আসা গাড়ি বহরে হামলার ঘটনাসহ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড সমূলে উৎখাতের আহ্বান জানান।
- জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করার আহ্বান — অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে
- গণহত্যার বিচার দাবি এবং বিচারের আখ্যান পুনরায় উচ্চারণ
- পাচার করা অর্থ ফেরত, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি
জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশে বলেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন করে স্বাধীনতার স্বরূপ গঠিত হয়েছে এবং নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর দেখতে চাই না। তিনি বলেন, খুনি হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়বো না এবং লড়াই চলবে বলে বক্তব্যে অভিসার জানান।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে আবেদনপত্র বা ঘোষণা না হলে ভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রস্তুতি থাকা জানানো হয়।