সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অগ্নিকাণ্ডে নাশকতা বা কোনো অপরাধমূলক জড়তার প্রমাণ মেলেনি এবং আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বৈদ্যুতিক লুজ কানেকশনের কারণে। প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাখিল করা হয়েছে এবং তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও আলোচনা

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানান, প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রিপোর্ট তুলে ধরে বিশেষজ্ঞ দল ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে

তদন্তে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের নাম ও অবস্থান কাগজে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের সময় বুয়েট, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, সেনাবাহিনীর বোমা ও ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশের সিআইডি টিম কাজ করেছে। তদন্ত কমিটি গঠনের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রধান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করা হয়েছিল।

তদন্তে উপস্থিত সদস্যদের তালিকা

  • বুয়েটের অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) মাকসুদ হেলালী
  • সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব রাসেল
  • ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল
  • প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম
  • উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার
  • উপ-প্রেস সচিব ফয়েজ আহ্ম্মদ

ঘটনা ও ক্ষতির বিবরণ

তদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত প্রায় ২টার কিছু আগে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অষ্টম ও নবম তলায় নথিপত্রসহ বেশ ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর রয়েছে।নথিপত্রের অনেকাংশ পুড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিলের পরে তদন্ত কমিটি এবং প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে প্রতিবেদন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ করা হয়েছে। তদন্তের এই পর্যায়ে নাশকতা সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং ঘটনার সূত্রপাত বৈদ্যুতিক লুজ কানেকশনে নির্দেশিত হয়েছে।

অবশেষে, তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক ফলাফল প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুসরণযোগ্য দিকনির্দেশনা গ্রহণের জন্য আলোচনা হয়েছে।