খ্রিস্টীয় নতুন বছর‑২০২৫ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালি এবং বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি এ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে নতুন বছরের আগমনী বার্তা এবং সরকারের অঙ্গীকার সম্পর্কে মতামত জানিয়েছেন।

উপস্থিতির প্রেক্ষাপট

প্রধান উপদেষ্টা একটি বাণীতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে নতুন বছরের আগমনী বার্তা মানুষকে উদ্বেলিত করে এবং নবউদ্যমে সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগোনোর অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি বাণীতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে সরকার সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে।

বাণী ও মূল বক্তব্য

প্রধান উপদেষ্টার বাণী থেকে সরাসরি উদ্ধৃত এক অংশে তিনি নতুন বছরের মাহেন্দ্রক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এতে তিনি কিছুমান ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বর্ণনা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেছেন।

“নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, নবউদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। নতুন বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে আরোহণে অঙ্গীকারাবদ্ধ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।”

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত এবং এটি লাখো শহীদের রক্ত ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা সংরক্ষণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এই বিষয়গুলি উপস্থাপন করে সরকারের নৈতিক দায়বদ্ধতা ও জনআন্দোলনের ইতিহাসকে রূপায়িত লক্ষ্য হিসেবে উদ্দিষ্ট করেছেন।

“ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার লাখো শহীদের রক্ত ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতা সর্বদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করছে। আমরা দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এবং যেকোনো সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত করবো।”

প্রধান উপদেষ্টা নতুন বছরে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার কামনা প্রকাশ করেছেন এবং সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বাণী শেষ করেছেন।

উল্লেখ্য যে ওই বাণীতে প্রদত্ত সব বক্তব্যই প্রধান উপদেষ্টার নিজস্ব ঘোষণার প্রতিফলন; এতে সরকার এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক, বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।