খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাধারণ পরিষদের দ্বাদশ অধিবেশনে জাতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পেশ করা হবে। দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন এবং অনুষ্ঠানের তফসিল ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

আয়োজন ও উদ্দেশ্য

ড. আহমদ আবদুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলাফত মজলিস একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, ‘‘পতিত খুনি হাসিনা সরকারের পতনের পর আজকের মুক্ত পরিবেশে’’ দলটি সরকার ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলে দৃঢ় মনোভাব পোষণ করেছে।

মহাসচিব আরও বলেন, খেলাফত মজলিস মনে করে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও মুক্তির পথ হচ্ছে ইসলাম। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের আলোকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সাজালে দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও মুক্তি অর্জন সম্ভব হবে বলে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। দলটির বিবৃতিতে গত ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিচার, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংহত করে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।

অধিবেশন কর্মসূচি ও অংশগ্রহণ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাধারণ পরিষদের দ্বাদশ অধিবেশন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। মহাসচিব বলেন, খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও মানব মুক্তির আদর্শের ভিত্তিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং চলমান রাষ্ট্র সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পর্কেও বলা হয়, তৃণমূল কাউন্সিল সফলের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষের দিকে এবং জাতীয় নেতারা, বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র প্রতিনিধিদের অধিবেশনে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে যে সবাই আন্তরিকভাবে দাওয়াত গ্রহণ করেছেন।

‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, এনডিএম, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ প্রতিনিধিত্বশীল সব দলের নেতা, দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী উপস্থিত হবেন। দেশ-বিদেশের ডেলিগেটদের পদচারণায় মুখরিত হবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সাবেক আমির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক অধিবেশন উদ্বোধন করবেন।’

সংগঠনের নেতৃত্ব ও উপস্থিতরা

সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির, যুগ্ম-মহাসচিব, তথ্য-প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকর্তাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মহাসচিবের ভারপ্রাপ্ত বক্তব্যে সভার সভাপতিত্ব, উদ্বোধন ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সর্বশেষ বলা হয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত অধিবেশন থেকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার প্রত্যাশা সরকার করা হয়েছে।