বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, আগামী সরকারের দায়িত্ব বিএনপিই নেবে এবং দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করবে। তিনি বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন এবং তার নেতৃত্বে সকল ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। তিনি এই বক্তব্যটি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।
আলোচনা সভার প্রেক্ষাপট
আলোচনা সভার শীর্ষক ছিল “শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন, প্রসার ও কর্মমুখীকরণে বিএনপির ভূমিকা।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু সাঈদ পলাশ এবং সঞ্চালনা করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপিকা শামীমা ইয়াসমিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ইআরআই চেয়ারম্যান ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
নিতাই রায়ের বক্তব্য
অ্যাডভোকেট নিতাই রায় বলেন, “আমরা শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, রূপান্তর চাই।” তিনি অভিযোগ করেন যে গত ১৬ বছর ধরে বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বিশেষত শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিতাই রায় দাবি করেন যে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দূষিত হয়েছে এবং এজন্য দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কারের দাবি
ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সভায় শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ও একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকার একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন করেছে এবং এটি একটি ভালো উদ্যোগ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি একটি কারিগরি মন্ত্রণালয় গঠনের প্রয়োজনীয়তাও উত্থাপন করেন এবং বলেন শিক্ষিত কার্যকরভাবে বিদেশে প্রেরণ করলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বৃদ্ধি সম্ভব।
- সভায় সভাপতির নাম: অধ্যক্ষ আবু সাঈদ পলাশ
- সঞ্চালক: অধ্যাপিকা শামীমা ইয়াসমিন
- প্রধান আলোচক: ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
রাজনৈতিক মন্তব্য ও নির্বাচন সংক্রান্ত প্রসঙ্গ
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সভায় বলেন যে বাংলাদেশকে বাইরের কোনো দেশের উপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং দেশের পরিস্থিতি বদলাতে যথাযথ রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি কিছু ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কাজকে স্বীকৃতি দিলেও বলেছেন যে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা রয়েছে। তাই তিনি দ্রুত নির্বাচন করে একটি রাজনৈতিক সরকার গঠন করে সমস্যাগুলো সমাধান করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি এবং বক্তারা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনার ওপর repeatedly জোর দেন। সভায় বক্তারা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়কে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেন এবং এতে নীতিগত ও প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভার শেষে বক্তারা শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে এবং দ্রুত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবনা নিয়ে একপ্রকার ঐক্যমত প্রকাশ করেছেন।