রাজধানীর মিরপুরে গত রোববার শুন্য রাতে ঘরের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে দগ্ধ হওয়া পরিবারের একজনের চিকিৎসা চলাকালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) করে রুমা আক্তার (৩২) মারা যান। এর আগে একই ঘটনায় তার স্বামী মো. আব্দুল খলিল মারা গেছেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পারিবারিকভাবে মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকা ওই পরিবারের দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশের বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে জানানো হয়েছে। রুমা আক্তারের মৃত্যুর ফলে ওই পরিবারের হতাহত সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিকিৎসা ও আহতদের অবস্থা

দগ্ধ অবস্থায় মোট সাত জনকে ভর্তি করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের মধ্যে কয়েকজনের দগ্ধের পরিমাণ এবং অবস্থা গুরুতর। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, মিরপুরের পল্লবী থেকে সাতজন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি জানিয়েছেন যে আব্দুল খলিলের মৃত্যু হয়েছে এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রুমা আক্তার নামের আরও একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। রুমার শরীরে ২০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

ভর্তির তালিকা

  • আব্দুল্লাহ (১৩)
  • মো. (১০)
  • ইসমত (৪)
  • স্বপ্না (২৫)
  • শাহ্জাহান (৩৪)

পরিবারের বক্তব্য ও ঘটনার সূত্রপাত

নিহতের ভাই আব্দুল হালিম ঘটনার সময় পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন যে বিস্ফোরণ ঘটার সময় ঘরে মশার কয়েল জ্বলছিল। তিনি ঘটনার সময়ের বিবরণ দিতে গিয়ে ঘটনার তারিখ ও সময় সম্পর্কেও কথা বলেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দীন থানায়; বর্তমানে তারা মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

“আজ আমার বোন মারা গেছে।”

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দুলাভাই খলিল তার রুমে রাতের দিকে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় হঠাৎ রুমে আগুন লেগে যায়। এরপর দ্রুতভাবে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের স্থানীয়ভাবে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

চিকিৎসকরা জানান যে রুমা আক্তারের ওপরও চিকিৎসা অব্যাহত ছিল, তবে শনিবার ভোরে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা শঙ্কাজনক বলা হচ্ছে।

খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এই ঘটনায় মৃত ও আহতের সুনির্দিষ্ট পরিচয়, হাসপাতালে ভর্তি সময় ও চিকিৎসার বিশদ বিবরণ হাসপাতালের রোগনথি ও পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত করা হয়েছে।