নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রত্যাহারের দাবি: জামায়াতের আলটিমেটাম
ঢাকা-র আগারগাঁও-স্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালা নিয়ে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান সংক্রান্ত যে বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার এবং সাংবিধানিক নীতি
সংগঠনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত এক পত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দেশে বর্তমানে ত্রিশ হাজারেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েক লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী এক লহমায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হবেন। দলটির নেতৃবৃন্দের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও বৈষম্যহীনতার যে মূলনীতি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী বিধিমালার এ ধরনের পরিবর্তন নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রতিনিধিরা জানান, “আমরা বিশ্বাস করি যে প্রস্তাবিত বিধানটি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সংশোধন করা উচিত, যাতে যোগ্য নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে অক্ষুণ্ণ থাকে।” তারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, চলতি বছরের জুন মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে পূর্বে প্রদত্ত তাদের মতামতগুলোও পুনরায় বিবেচনা করা আবশ্যক।
কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী অধিকার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে রাজনৈতিক দলটি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত ৬৭ বছর বয়সী জনৈক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। দলটির সরাসরি অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রয়েছে এবং তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো কমিশনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
কমিশনের নিরপেক্ষতা রক্ষায় আহ্বান
তারা জোর দিয়ে বলেন যে, সংবাদমাধ্যমে ওই কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার খবর আসার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীন কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে চরম বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই অবিলম্বে সেই বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সচিবালয় ও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্পষ্ট করেন যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণের কাছে জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হবে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #নির্বাচন_কমিশন #সংবাদ