ভারতের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁদের সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত এখনো বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। সে এখনো তাদের ফেরার অপেক্ষায় আছে।
গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে শিশুসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন।
দেবাশীষ দত্ত তাঁর অসুস্থ স্ত্রী আফসানা শারমীনের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলেন। প্রথমে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিনের চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে তাঁরা কলকাতায় ফেরেন। আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের বাড়িতে বর্তমানে শোকের মাতম চলছে। দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত তাঁর ছেলের জন্য বিলাপ করছেন এবং স্বজনেরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মহিমা কুষ্টিয়া শহরের একটি স্কুলে কেজি শ্রেণিতে পড়ে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মহিমার উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার সব খরচ বহন করবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহিমার স্কুল থেকে শিক্ষকেরা সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন।
লাশ হস্তান্তরে বিলম্ব হচ্ছে কারণ ময়নাতদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং কিছু কাগজপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বাকি আছে। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. ওমর ফারুক আকন্দ জানিয়েছেন, পুলিশের লাশ হস্তান্তরের পর তাদের দুই ঘণ্টার কিছু প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ পাঠানো হবে।
এদিকে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দীন গত রাতে পৃথকভাবে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। সংসদ সদস্য মহিমার পড়ালেখার বিষয়ে কী করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দীনও শিশুটির ভবিষ্যৎ জীবনে খোঁজখবর রাখবেন বলে জানান।
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্যান্য বাংলাদেশি সাতজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন ছাড়াও সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু এবং ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু রয়েছেন।