রাজধানীর কাফরুলে সশস্ত্র হামলা: যুবদল কর্মী নিহত, আরও দুজন আশঙ্কাজনক
ঢাকা-র কাফরুল এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক দলের একজন স্থানীয় নেতাসহ মোট দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই সশস্ত্র হামলায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ঘটনাস্থল ও ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে মিরপুর-১৩ এলাকার শের-এ-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মী একত্রে দাঁড়িয়ে কথোপকথন করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ করেই তিনটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই একাধিক ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হতাহতের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা
এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম ইউসুফ আলী (৪৫)। তিনি যুবদল-এর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার মূল বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাকরাল গ্রামে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর-১৩ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি সরাসরি তার বুকে বিদ্ধ হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে, ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন যুবদল-এর কাফরুল থানা ইউনিটের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান এবং নলম সরদার (৪৫) নামের অপর এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, “হাফিজুর রহমানের শরীরে দুটি গুলি আঘাত হানে, যার ফলে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।” বর্তমানে উভয়কেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
ঘটনার সময় উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিএনপি কর্মী সুজন জানান, তারা ৮ থেকে ১০ জন রাতের বেলায় সেখানে স্বাভাবিকভাবে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিশানা করে গুলি চালায়। আকস্মিক এই গোলযোগের ফলে আশপাশের দোকানপাট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতির সঞ্চার হয়। এলাকাটি তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং হামলার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতা কিংবা ব্যক্তিগত কোন্দলের জের ধরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
#অপরাধ #ঢাকা #রাজনীতি #সংবাদ