খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ: শাবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

সিলেট শহরের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) খাবারের নিম্নমান নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনলাইন জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

ঘটনার পটভূমি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ

শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খাবারের বাজে মান নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এই প্রতিবাদের জের ধরে গত ১৮ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তাকে নির্মমভাবে অত্যাচার ও মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় খায়রুলকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের তারেক রহমান। তারা উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকায় ক্ষমতাসীন সংগঠনের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্ত ও কঠোর পদক্ষেপ

বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি এবং শৃঙ্খলা কমিটির সমন্বিত সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” শাস্তির আওতায় বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী আগামী দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কিংবা প্রবেশ করতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন সিদ্ধান্তকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে খাবারের নিম্নমান কিংবা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর ভয়ে পিছপা হবেন না।

ক্যাম্পাস প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ শৃঙ্খলার বার্তা

ছাত্র রাজনীতি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার এই ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী খায়রুল চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থতার পথে থাকলেও তার ওপর নেমে আসা অন্যায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এটি অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবাসিক হলগুলোতে খাবারের মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও তদারকি বাড়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে সমাধানের জন্য সঠিক উপায় অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মারধর বা যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি প্রশাসন সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।

#শাবিপ্রবি #শিক্ষা #বাংলাদেশ #সংবাদ