বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একটি ছাত্র-শ্রমিক-জনতার মিছিলের ওপর হামলার জেরে এই আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আগুন জ্বলার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট তা নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় মিছিলের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সন্ধ্যা ৬টায়, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, মিছিলটি যখন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে পৌঁছায়, তখনই এর ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। এই হামলার পরপরই জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের বিস্তারিত

ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন রশিদ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই হামলায় তাদের প্রায় ২০ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হারুন রশিদ দাবি করেন, এই হামলার প্রতিবাদস্বরূপ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। তার এই বক্তব্য ঘটনার তীব্রতা তুলে ধরে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসান আল মামুন জানান, মিছিলটি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে আসার আগেই সেখানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। মিছিলটি পৌঁছামাত্র তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা সংঘর্ষকে আরও তীব্র করে তোলে।

অগ্নিকাণ্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার প্রায় ২০ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে, সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকে ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেয় এবং ফিরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুনরায় ঘটনাস্থলে এসে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় পার্টির অফিসের নিচতলা সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং কার্যালয়ের আশপাশের সব ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়, যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্দেশ করে।

পরবর্তী পরিস্থিতি

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, রাত ৮টা ২৫ মিনিটে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অবস্থান ছিল। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল এবং পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। অন্যদিকে, বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জড়ো হচ্ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে সংহতি প্রকাশ করা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা। এই ঘটনা শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।