সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের এই অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি দেশের আর্থিক অপরাধ দমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান গত বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ যুক্তরাষ্ট্রে ‘নাহার ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি ফ্ল্যাট কেনেন। পরবর্তীতে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবসা করার জন্য দুবাইয়ে ‘র্যাপিড র্যাপ্টর এফজিই’ এবং ‘জেবা ট্রেডিং এফজিই’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান খোলেন।
বিদেশে সম্পদ ও বিনিয়োগের বিবরণ
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রুখমিলা জামান চৌধুরীর নামে দুবাইয়ের আল-বারশা সাউথ-থার্ড এলাকায় ‘কিউ গার্ডেন্স’ ও ‘বুটিক রেসিডেন্সে’ দুটি ফ্ল্যাট কেনা হয়, যার দাম ২২ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ দিরহাম। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬২০টি বাড়ি কেনেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার।
ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের ও স্ত্রী রুখমিলা জামানের নামে যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে আটটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী ও চলতি সম্পদের মূল্য ২১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ করেছেন।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত যে ২১টি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে, সেই তালিকায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী বা তার পরিবারের কারও নাম নেই। এটি অর্থপাচারের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
পুলিশ সুপার আজাদ রহমান আরও বলেন, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী যে সম্পদ বিবরণী জমা দেন, সেখানে তার বিদেশে থাকা সম্পদের কোনো তথ্য নেই। অর্থপাচার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুসারে একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। এই কারণে সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট অনুসন্ধান শুরু করেছে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অর্থপাচার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করবে।