বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন নাম থেকে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলিম’ শব্দ মুছে দেওয়ার অন্যতম ভিকটিম হলো ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’। তিনি এই মন্তব্যটি গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার এই বক্তব্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক নামকরণের পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের ইতিহাস তুলে ধরে এই বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সরকার একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার পূর্ব নাম জাহাঙ্গীরনগরের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করেছিল ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি ছিল দেশের প্রথম এবং একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা ‘মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের ইতিহাস

১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট একটি সরকারি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি ছিল দেশের প্রথম ও একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

তবে, ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শুধুমাত্র ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হয়। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম এই পরিবর্তনকেই ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলিম’ শব্দ মুছে দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং নামকরণের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি

এদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সব দলের অংশগ্রহণে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। এই দাবির মাধ্যমে সংগঠনটি প্রায় ৩৫ বছর পর প্রকাশ্যে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করলো। এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে। ছাত্র শিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মনে করে যে, একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব ছাত্র সংগঠনেরই তাদের মতামত প্রকাশ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

এই ঘটনাটি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক চর্চা এবং নামকরণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারির মন্তব্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দাবি উভয়ই দেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।