বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামের দেওয়া একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, একটি ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই আহ্বান জানান। ছাত্রশিবির সেক্রেটারি উল্লেখ করেন যে, ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লেখালেখি করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তার দলের সকল দায়িত্বশীল ও জনশক্তি ভাইদের প্রতি কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য অনুরোধ করেছেন।
জাহিদুল ইসলাম তার বার্তায় জাতীয় ঐক্যকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি ও দলীয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অন্যতম মূলনীতি হলো জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদ নির্মূল করা। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে উদারতা ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ যেন সবাইকে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে কাজ করার তৌফিক দান করেন।
আহ্বানের প্রেক্ষাপট
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম সম্প্রতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি মনে করেন যে, এই ধরনের বিতর্ক দলের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তিনি তার দলের সকল সদস্যকে সংযত থাকার এবং কোনো ধরনের পাল্টা মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেন।
এই আহ্বানটি দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বনের ইঙ্গিত দেয়। জাহিদুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তাদের লক্ষ্য হলো ফ্যাসিবাদ নির্মূল করা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ছোটখাটো দলীয় বা ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়িয়ে পড়া অনুচিত। তার এই বার্তা দলের সদস্যদের মধ্যে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে, যাতে তারা বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত না হন।
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম তার বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা হলো জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিবাদ নির্মূলের জন্য এই ঐক্য অপরিহার্য। তার মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে উদারতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি চান না যে, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরে যাক। তার এই বার্তা দলের কর্মীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে এবং তাদের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।