বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাষ্ট্রীয় কোনো দায়িত্বে থাকার অধিকার নেই এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের তালিকা ও বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানান। তার মতে, রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থ হলে নির্বাচনী রোডম্যাপও সফল হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আইনজীবী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, ভোটের আগে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেই কেবল নির্বাচনী রোডম্যাপ সফল হতে পারে। তিনি নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সংস্কারের একটি রোডম্যাপ ঘোষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের অপসারণ ও সংস্কারের দাবি

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় কোনো পদে থাকার অধিকার নেই। দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনো এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন এবং তাদের দ্রুত অপসারণ করা অপরিহার্য। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, কী কী সংস্কার করতে চান তার বিস্তারিত তালিকা ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। তার মতে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা না গেলে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ কার্যকর হবে না।

“অন্তর্বর্তী সরকার কী কী সংস্কার করতে চায়, এর তালিকা দিতে হবে। পাশাপাশি এগুলো সংস্কারের টাইমলাইন দিতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যর্থ হলে নির্বাচনের রোডম্যাপও ব্যর্থ হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির জন্য নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপ জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, একটি সফল নির্বাচনের জন্য ভোটের আগেই সকল সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক।

গণহত্যায় জড়িতদের বিচার ও শহীদদের স্বীকৃতি

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে গণহত্যা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। তিনি বলেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আদেশ পালন করেছে ও সহযোগিতা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না এবং সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান ফ্যাসিবাদের পতনের আন্দোলনে শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো আর্থিক মূল্যে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

“যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আদেশ পালন এবং সহযোগিতা করেছে- সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াত শহীদদের দলীয় সম্পদ বানাতে চায় না, কারণ শহীদরা সবার এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তিনি দাবি করেন যে, শহীদদের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে সরকারি চাকরি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে এই কাজটি করতে হবে।

এই আইনজীবী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।