ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে করা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সাথে দলটি পার্বত্য জেলাগুলোতে উদ্ভূত সংঘাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিএনপি মনে করে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

গত সোমবার দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই নিন্দা জ্ঞাপন ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অমিত শাহ সম্প্রতি হুমকি দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের “উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে”। বিএনপির স্থায়ী কমিটি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দকে এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপি আরও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোয় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পার্বত্য জেলায় সংঘাত ও উদ্বেগ

বিএনপি পার্বত্য জেলাগুলোতে চলমান সংঘাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির মতে, এই সংঘাত “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার সুদূর প্রসারী চক্রান্তের অংশ”। বিএনপি এই ঘটনাকে “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছে। তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকিস্বরূপ এবং এটিকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

পার্বত্য জেলাগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি একটি জাতীয় কনভেনশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই কনভেনশনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, পার্বত্য জেলায় সংশ্লিষ্ট নেতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা এই লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা ও প্রতিরোধ

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, “পতিত ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও মব লিঞ্চিংয়ের মতো ঘটনা ঘটিয়ে শিল্পাঞ্চল এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।” বিএনপি অভিযোগ করেছে যে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি এসব “সমাজবিরোধী এবং ঐক্যবিনাশী কর্মকাণ্ডের” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সভা মনে করে, এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে সব গণমাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার প্রচারণা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দলটি অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় এবং দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।