জুলাই গণঅভ্যুত্থান জনগণের অর্জন, দলীয়করণের সুযোগ নেই: জামায়াত নেতা
চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান এলাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর একক সাফল্য নয়, বরং এটি সমগ্র দেশের সর্বস্তরের মানুষের যৌথ অর্জন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ আন্দোলনের মহান শহীদদের আত্মত্যাগকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার না করে জাতীয় সম্পদ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অসামান্য ভূমিকা
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শ্রমিক, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের সফলতা এনে দিয়েছে। তাই এই আন্দোলনকে কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় গণজাগরণের এক অনন্য ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান প্রদান, উপযুক্ত মূল্যায়ন এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলনের ঘোষিত সকল মূল দাবি ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ঐতিহ্য
চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণসংগ্রামে এই অঞ্চলের মানুষের অবদান অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো অন্যায়, নিপীড়ন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আপামর জনগণ তাদের এই সংগ্রামের ধারা সবসময় বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।” তিনি সতর্ক করে দেন যে, দেশের কর্মজীবী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত আকাক্সক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কেবল আদর্শিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনমুখী শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।
শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি সহযোগিতা
উক্ত স্মরণ সভায় জুলাই আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রাম অঞ্চলের শহীদ ফারুক হোসেনের পরিবার বর্গসহ আহত একাধিক সংগ্রামী ব্যক্তিকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং আন্দোলন পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
#জুলাইবিপ্লব #চট্টগ্রাম #জামায়াতেইসলামী #রাজনীতি #বাংলাদেশ