বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হিন্দু সম্প্রদায়কে আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসব নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। একইসাথে, তিনি দেশের সকল ধর্মাবলম্বীকে দুর্গাপূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তার এই আহ্বান দেশের সকল নাগরিকের প্রতি বিএনপির সমানাধিকার ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমানাধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সবার।” তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। তারেক রহমান স্পষ্ট করে দেন যে, এটাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মূল নীতি এবং তাদের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও বিশ্বাস করেন এবং তার দল বিএনপিও এই আদর্শে অবিচল যে, “দলমত ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এই উক্তির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলেও রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং সকলের প্রতি রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব রয়েছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার,” যা দেশের সকল ধর্মাবলম্বীর জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান

এই বিশেষ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানটি শুক্রবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তাদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের এই উপস্থিতি আয়োজনের গুরুত্ব এবং দলের প্রতি তাদের আস্থা ও সম্পৃক্ততা নির্দেশ করে।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে জয়ন্তু কুমার কুন্ডু, আবদুল বারী ড্যানি, অর্পনা রায়, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ রায় মধু, সুশীল বড়ুয়া, জনগোমেজ এবং মিল্টন বৈদ্যও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা আয়োজনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে।

তারেক রহমানের এই বার্তা দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারেক রহমান তার মন্তব্যে দেশের সকল ধর্মাবলম্বীর প্রতি সহনশীলতা ও সহাবস্থানের বার্তা দিয়েছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।