অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত ছয়টি কমিশন আগামী ডিসেম্বরে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরও উল্লেখ করেন যে, এই ছয়টি সংস্কার কমিশন অক্টোবর মাস থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেবে। তিনি বলেন, কমিশনগুলো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর এই প্রতিবেদনগুলো অনলাইনে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং নাগরিকরা এ বিষয়ে অবগত হতে পারবে।

কমিশন গঠন ও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রধানদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১১ সেপ্টেম্বর এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশন গঠন করে। এই কমিশনগুলোর মূল লক্ষ্য হলো দেশের শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করা। নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন এবং সংবিধান—এই ছয়টি ক্ষেত্রকে সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

সংস্কার কমিশনের প্রধানগণ

প্রতিটি কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান সরফরাজ চৌধুরী। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান। দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

এই কমিশনগুলোর কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারের পথ প্রশস্ত করবে। তাদের সুচিন্তিত প্রতিবেদন এবং প্রস্তাবনাগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে এবং একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।